২রা আষাঢ়, ১৪৩১| ১৬ই জুন, ২০২৪| ৯ই জিলহজ, ১৪৪৫| সকাল ৮:২৪| বর্ষাকাল|

জাতীয় চা পুরস্কার পেল ৮ কোম্পানি ও ব্যক্তি

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৪ জুন, ২০২৪
  • ১১ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চায়ের বহুমুখী উৎপাদনের দিকে মনোযোগ দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বিশ্বব্যাপী চায়ের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই শুধু চা পাতা বিক্রি না করে সেটাকে মূল্য সংযোজন করে আমরা রপ্তানি করব। তাতে বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন হবে, যারা ব্যবসা করেন তাদেরও ভালো উপার্জন হবে। বিশেষ করে অ্যারোমা চা তৈরি করতে হবে। বিদেশে এসব চায়ের অনেক চাহিদা রয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘জাতীয় চা দিবস’ উদযাপন এবং জাতীয় চা পুরস্কার-২০১৪ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মানুষের রুচি এখন বদলে গেছে। বিভিন্ন ধরনের চা এখন পাওয়া যায়। সুগন্ধি চা তৈরি করুন। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন স্বাদের চায়ের চাহিদা এখন অনেক বেশি। চা উৎপাদনের পাশাপাশি এ দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
সরকার প্রধান বলেন, মানুষের রুচির পরিবর্তন ঘটায় এখন বিভিন্ন ধরনের চা পাওয়া যাচ্ছে। হারবাল টি, ‘মসলা টি’ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। সেজন্য ‘অ্যারোমা টি’ উৎপাদন করা প্রয়োজন। কেননা বিভিন্ন অ্যারোমা চায়ের কদর অনেক বেশি। তাছাড়া তুলসি, আদা, লেবু, তেজপাতা, এলাচ, লং, দারুচিনি প্রভৃতির সাহায্যে আমরা যে চা বানাই সে চা’টাও যদি প্যাকেটজাত করা যায়।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি ও শ্রমিকদের মাঝে ৮টি ক্যাটাগরিতে ‘জাতীয় চা পুরস্কার ২০২৪’ প্রদান করেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি টিপু মুনশি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম উদ্দিন, চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলাম বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে চা শিল্পের ওপর নির্মিত একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে চা মেলারও উদ্বোধন করেন এবং পরে বঙ্গবন্ধু কর্নার এবং চা মেলা পরিদর্শন করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৭ সালের ৪ জুন প্রথম বাঙালি হিসেবে চা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে যোগদান করে বাঙালি জাতিকে সম্মানিত করেন। সেই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে সরকার ২০২১ সাল থেকে ‘জাতীয় চা দিবস’ পালন শুরু করে। ‘স্মার্ট বাংলাদেশের সংকল্প, রপ্তানিমুখী চা শিল্প’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে দেশে চতুর্থবারের মতো এ বছর ‘জাতীয় চা দিবস-২০২৪’ উদযাপন হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে চা মালিক ও ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এটা বলব যারা চা মালিক এবং ব্যবসায়ীগণ রয়েছেন তাদের বিশেষ করে মালিকদের বলব আপনারা ভ্যালু অ্যাডেড করেন। বাল্কে চা বিক্রির পরিবর্তে যদি ভ্যালু অ্যাডেড করেন তাহলে আপনারা ভালো দাম পাবেন, উপার্জন করতে পারবেন এবং বিশ^ব্যাপী এর চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাট পাতা থেকে চা তৈরিতে গবেষণা চলছে এবং সীমিত আকারে উৎপাদন হচ্ছে, যেটি নিয়ে আরও গবেষণা করে এর উৎকর্ষ সাধন প্রয়োজন।
তার সরকারের সারাদেশে বিদ্যুতায়নের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধির উল্লেখ করে টানা চতুর্থবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এখন গ্রাম গঞ্জের মানুষ অনেক বেশি তথ্য রাখেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলেও রাত ১১টা ১২ পর্যন্ত সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও বিশ্বপরিস্থিতির আলোচনায় চায়ের কাপে ঝড় ওঠে।

তিনি বলেন, চায়ের কাপে এই ঝড় দিন দিন বাড়ছে কাজেই চায়ের চাহিদাও বাড়ছে। সেজন্য উৎপাদনও বাড়াতে হবে। আর এটা করার জন্য যা যা করা দরকার অবশ্যই আমরা তা করব। আপনাদের সবরকম সহযোগিতা করব সেটাই আমাদের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় চা শ্রমিকদের প্রতি আরও যত্নবান হওয়ার এবং তাদের দিকে বিশেষভাবে নজর দেওয়াসহ তাদের সন্তান-সন্ততিদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য চা বাগানের স্কুলগুলোর উন্নয়নের জন্য মালিকপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, চা বাগানে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার শ্রমিক কর্মরত যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও অনেকেই রয়েছেন।

কাজেই তাদের জীবন মান উন্নত করা, তাদের আর্থিক দিকটা দেখা, তাদের ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎটা দেখা কিন্তু মালিকদের দায়িত্ব। অভিভাবকের মতো আপনারা সেটা দেখবেন, সেটাই আমরা চাই। পাশাপাশি চা শ্রমিকরা আর ভাসমান থাকবে না- সে বিষয়টিও দেখার আশ^াস দেন প্রধানমন্ত্রী।
মালিকদের উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চা শ্রমিকদের প্রতি যতœবান হলে তাদের থেকে বেশি কাজ করিয়ে নিতে পারবেন। তাদের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া, চিকিৎসাসহ নানান বিষয় দেখবেন। চা শ্রমিকদের নাগরিকত্ব দিয়েছেন জাতির পিতা। তাদের মাথাগোঁজার ঠাঁই, আপন ভূমি নেই। আমরা তাদের সেই মাথাগোঁজার ঠাঁই করে দেব। কেউ ভূমিহীন, গৃহহীন থাকবে না। আমাদের পরিষ্কার কথা।

শেখ হাসিনা বলেন, চা আমার খুব প্রিয়। আমি চা পান করি। কারণ, জাতির পিতা চা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। আর বিশেষ করে, চা শ্রমিকরা নৌকায় ভোট দেয়। অনেকে অনেকভাবে চেষ্টা করেছে, কিন্তু তাদের অন্য দিকে নিতে পারে নাই। তাদের (শ্রমিক) ভালোবাসা, আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করে।
তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলে চায়ের যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে সেটাকে সম্প্রসারণ করা, যতœ করা, কীভাবে আরও চা উৎপাদন বাড়ানো যায় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া চা বোর্ড, ক্ষুদ্র চাষিদের প্রযুক্তি সহায়তা, প্রণোদনা, সবদিক থেকে সরকার সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। পঞ্চগড়ের পাশাপাশি লালমনিরহাটেও চা বোর্ডের স্থায়ী অফিস নির্মাণ করা হয়েছে।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের উত্তরবঙ্গে চা চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর এবং রংপুর জেলায় চা চাষ সম্প্রসারিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পঞ্চগড়ে আঙ্গিনায়ও চা হচ্ছে, তারা তরকারিও ফলায়, চায়ের গাছও লাগায়। চা আমাদের অর্থকরী ফসল হচ্ছে। যেটা দেশের মানুষের আর্থিক সচ্ছলতা এনে দিতে সহায়তা করছে। চায়ের চাহিদা বেড়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রাখতে হবে। গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। তার সরকার চা উৎপাদনে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে ২০২৩ সালে রেকর্ড ১০২ দশমিক ৯২ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হয়েছিল।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category